যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। কংগ্রেসের উভয় কক্ষ—সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। ফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছর আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাড়তে পারে রাজনৈতিক বাধা।
নির্বাচনী ফলাফলে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একাধিক অঙ্গরাজ্যেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। টেক্সাস, কানসাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, আইওয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও মেইনে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসন পুনরুদ্ধার করেছেন তারা।
প্রতিবেদনে প্রকাশিত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সিনেটে ৫৪টি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২৩১টি আসন পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। বিপরীতে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা যথাক্রমে ৪৪ ও ১৩৯। তবে সব আসনের ফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে ভোটারদের অসন্তোষের অন্যতম কারণ ছিল অর্থনৈতিক চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি। বুথফেরত জরিপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত, জ্বালানি তেলের দাম এবং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিও নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে।
নিজ দলের ভরাডুবির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি নিজে ব্যালটে না থাকায় এমন ফল হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হলে রিপাবলিকানরা বড় ব্যবধানে জয়ী হতো।
এদিকে, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে তৈরি হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জ। প্রতিনিধি পরিষদের কমিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ পেয়ে ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও জবাবদিহির চাপ বাড়াতে পারবে। অন্যদিকে, আইন প্রণয়ন ও বাজেট অনুমোদনের ক্ষেত্রেও বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে প্রেসিডেন্টকে।
নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হলে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক সমীকরণে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হবে।