আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কিত প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশের ঘটনায় দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। এ ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
রাজধানী মালের ফৌজদারি আদালত মঙ্গলবার (১২ মে) অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘আদাদু’-এর দুই সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহজাহান ও লিভান আলী নাসিরকে যথাক্রমে ১৫ দিন ও ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রেসিডেন্টকে ঘিরে বিতর্কিত প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশের অভিযোগে তাদের এই সাজা দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে) এবং কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এ রায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। সিপিজে একে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার একটি শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
জানা যায়, গত ২৮ মার্চ ‘আদাদু’র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আয়শা’ শিরোনামে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করা হয়। এতে পরিচয় গোপন রাখা এক নারী প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু।
প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশের পর এপ্রিল মাসে ‘আদাদু’র কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সাংবাদিকদের ব্যবহৃত ল্যাপটপ, হার্ডড্রাইভ ও অন্যান্য ডিভাইস জব্দ করা হয় বলে অভিযোগ করে সংবাদমাধ্যমটি। তাদের দাবি, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত ও গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় ‘আদাদু’র দুই সম্পাদক হোসেন ফিয়াজ মুসা ও হাসান মোহাম্মদও বিচারাধীন রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ইসলামি আইনে ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগ আনার মামলা হয়েছে, যা প্রমাণিত হলে এক বছর সাত মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৮০টি দোররা মারার শাস্তির বিধান রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রামাণ্যচিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের সাবেক কর্মী আয়শাত এশা আশরাফের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ হোসেন শরিফ এই বিচার প্রক্রিয়াকে গণমাধ্যমের ওপর দমনমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
তবে সাংবাদিক সংগঠন, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলছেন, এই ঘটনা মালদ্বীপে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ এ রায়কে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে মালদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এমডিপি) এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।
সাবেক সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি হুসনু আল সুউদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে বলেন, এই পদক্ষেপ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁর ভাষায়, “সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়।”