আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, সীমান্তপারের সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকলে ইসলামাবাদ কাবুলের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।
একই সঙ্গে ভারতকেও ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তিনি।
বুধবার ইসলামাবাদে জাতীয় পরিষদে বক্তব্য দিতে গিয়ে খাজা আসিফ বলেন, পাকিস্তানের পূর্ব ও পশ্চিম—দুই সীমান্তেই এখন একই ধরনের নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, দিল্লি ও কাবুলের অবস্থানের মধ্যে এখন আর কোনো পার্থক্য নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তান বারবার কাবুলকে এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে বললেও তারা কেবল মৌখিক প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
খাজা আসিফ বলেন, আফগান ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না হয়—এ বিষয়ে ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে জোর দিয়ে আসছে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, যদি সন্ত্রাসীদের সহায়তা বন্ধ না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। নিরাপত্তার প্রশ্নে পাকিস্তান কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, উত্তেজনা কমাতে এবং সমস্যা সমাধানে কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের সহায়তায় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এসব দেশের মাধ্যমে কাবুলকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক সরকারের সমালোচনাও করেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রাদেশিক সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করেনি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করে খাজা আসিফ বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তারা নিঃস্বার্থভাবে আত্মত্যাগ করে যাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইসলামাবাদ একাধিকবার অভিযোগ করেছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হামলা চালাচ্ছে। যদিও তালেবান সরকার এ ধরনের অভিযোগ বিভিন্ন সময় অস্বীকার করেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কয়েকটি মিত্র দেশ দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চালিয়ে গেলেও পাকিস্তান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নিজেদের জনগণের নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসবে না।