• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

হরমুজ সংকটে চাপে বৈশ্বিক খেলনা শিল্প, বাড়তে পারে উৎপাদন ব্যয়

প্রতিবেদক / ৩৯ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান সংকটের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক খেলনা শিল্পেও। কৌশলগত এই জলপথে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে বিঘ্নের কারণে প্লাস্টিক ও পলিমারের দাম বেড়ে যাওয়ায় খেলনা উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তাসনিম নিউজ এজেন্সির সাংস্কৃতিক প্রতিবেদকের বরাতে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহন জটিলতার কারণে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। এর ফলে রাসায়নিক কাঁচামালের বৈশ্বিক সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়ছে এবং প্লাস্টিকজাত পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে। এসব উপাদান খেলনা, গাড়ির যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্যের মূল কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে এই সরবরাহ ব্যাহত হলে উৎপাদকদের অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে খেলনা শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে পারে। এতে ধীরে ধীরে বাজার বড় কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এমন সময় এই সংকট তৈরি হলো, যখন করোনাপরবর্তী দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে বৈশ্বিক খেলনা শিল্প আবারও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে শুরু করেছিল। চলতি বছরে উৎপাদন ও রপ্তানি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানি হ্রাস পাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো এই সংকটে বেশি প্রভাবিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড এবং ভারতের মতো দেশগুলোর খেলনা শিল্প ব্যাপকভাবে পেট্রোকেমিক্যাল আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেলনা রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে ভারত ও ভিয়েতনাম সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে নিজেদের খেলনা শিল্প সম্প্রসারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইউরোপীয় কোম্পানিগুলিও এই প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। যদিও ইউরোপের কিছু দেশে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প রয়েছে, তবুও তেল ও সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতার কারণে তারাও বর্তমান সংকটের প্রভাব অনুভব করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর অস্থিতিশীলতা দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বিশ্বব্যাপী উৎপাদনশিল্প, ভোক্তা বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নতুন চাপ তৈরি করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা