আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
বিশ্বরাজনীতির দুই পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে এবারের এই বৈঠককে কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা; বরং এটি বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য ও ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের জটিলতায় যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রবল চাপের মুখে রয়েছে। যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা মার্কিন প্রশাসনের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফরকে কেবল কূটনৈতিক প্রয়াস নয়, রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর চীনের প্রভাব এখন ওয়াশিংটনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে বেইজিং কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে, চীন যেন তাদের কূটনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ইরানকে যুদ্ধবিরতির পথে আনতে সহায়তা করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে এই বৈঠকের পরিকল্পনা করা হলেও তখনকার পরিস্থিতি বর্তমানের মতো ছিল না। এখন বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় চীন নিজেদের অবস্থান আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে পারছে। একই সঙ্গে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কৌশলগত কিছু ছাড় আদায়ের সুযোগও খুঁজছে।
বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, চীনের ওপর প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক সহায়তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। চীন চাইছে, তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করা হোক এবং প্রযুক্তি খাতে আরোপিত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা শিথিল করা হোক।
এদিকে ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক মহলের কয়েকজন প্রতিনিধিও বেইজিংয়ে গেছেন। এর মধ্যে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের উপস্থিতিও আলোচনায় এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের বিশাল বাজারে মার্কিন ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ালেও, চীন সেই পরিস্থিতিকে কৌশলগত সুবিধায় রূপ দিতে চাইছে।
এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ইরান সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র কি চীনের শর্ত মেনে সমঝোতার পথে হাঁটবে, নাকি এই বহুল আলোচিত বৈঠক শেষ পর্যন্ত কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে?