নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একইসঙ্গে তিনি নবনির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার ও বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগও তুলে ধরেছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি-র সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব বিষয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে।
পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, সরকারি সেবার মান উন্নয়ন এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি নিম্নআয়ের মানুষ ও কৃষকদের সুরক্ষায় সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আর্থিক সংকটের মধ্যেও বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। একইসঙ্গে সংঘাত-পরবর্তী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারী ও তরুণদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গেও কথা বলেন শামা ওবায়েদ। তিনি উল্লেখ করেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করেন খালেদ খিয়ারি। বিশেষ করে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বাংলাদেশের ভূমিকারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।