• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

পাকিস্তানের অনুরোধেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি : ট্রাম্পের দাবি

প্রতিবেদক / ৪১ বার
আপডেট : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, পাকিস্তানের অনুরোধ এবং বিভিন্ন দেশের আহ্বানের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি এ যুদ্ধবিরতির পক্ষে ছিলেন না বলেও মন্তব্য করেন।

চীন সফর শেষে রাষ্ট্রীয় বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “মূলত অন্য দেশগুলোর অনুরোধেই আমরা যুদ্ধবিরতিতে গিয়েছি। আমি নিজে এর পক্ষে ছিলাম না। পাকিস্তানের জন্যই আমরা এটি করেছি। তারা অসাধারণ মানুষ—সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী দুজনই।”
তিনি আরও জানান, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম আগামী ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার একটি প্রস্তাব বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে। তবে তেহরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করেন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগ এখনো পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি, যদিও পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। নয়াদিল্লিতে ইরানি দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ ও দুই দেশের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের কারণে আলোচনা প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরাগচি বলেন, ইরান বর্তমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে চায়, যাতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকে। তবে ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের কোনো আস্থা নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র সত্যিকার অর্থে সংলাপে আগ্রহ দেখালেই কেবল অগ্রগতি সম্ভব হবে।
তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত পরস্পরবিরোধী বার্তা দেওয়া হচ্ছে, যা মার্কিন উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে সন্দেহ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ওয়াশিংটন আবারও আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করে তেহরানের কাছে বার্তা পাঠিয়েছে।
চীনের সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ইরান। আরাগচির ভাষায়, ইরান ও চীন কৌশলগত অংশীদার এবং বেইজিংয়ের সদিচ্ছা ও ভূমিকার ওপর তেহরানের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ নিয়ে রাশিয়ার দেওয়া প্রস্তাবও ভবিষ্যৎ আলোচনার অংশ হতে পারে বলে জানান তিনি। তার মতে, এ বিষয়ে পরবর্তী ধাপের কূটনৈতিক আলোচনায় বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত জটিল” আখ্যা দিয়ে আরাগচি বলেন, যুদ্ধে সরাসরি জড়িত নয়—এমন দেশগুলোর জাহাজকে প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে। তবে এসব জাহাজকে ইরানি নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ড্রোন উৎপাদন ইউনিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয় ব্যক্তির তথ্য দিলে এক কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, “কিমিয়া পার্ট সিভান” নামের একটি প্রতিষ্ঠান বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ইউনিটের জন্য ড্রোন পরীক্ষা, উন্নয়ন ও সরবরাহ কার্যক্রমে জড়িত। অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ট্রাম্পের বৈঠকের শেষ দিনে বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার কোনো অর্থ নেই এবং শুরু থেকেই এই সংঘাত এড়িয়ে যাওয়া উচিত ছিল।
চীন বলেছে, দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জন্য নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে সমুদ্রপথ দ্রুত খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য টেকসই কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও জোর দিয়েছে বেইজিং।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা