আজ রোববার (১৭ মে) দেশটির চাঁদ দেখা কমিটির এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের দুই মসজিদ-ভিত্তিক ওয়েবসাইট ইনসাইড দ্য হারামাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দেশটির আকাশে চাঁদ দেখার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আকাশে আজ (রোববার) ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে।
এর ফলে আজ রাতেই বরকতময় জিলহজ মাস শুরু হবে। এছাড়া আগামী ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে সৌদি আরবের পরদিন ঈদ উদযাপিত হয়। সেই হিসেবে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে।
এর আগে পবিত্র জিলহজ মাস ও ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিন দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই। রোববার এই তিন দেশের সংশ্লিষ্ট চাঁদ দেখা বিষয়ক কমিটি জিলহজ মাস শুরুর ও পবিত্র ঈদুল আজহার ভিন্ন ভিন্ন তারিখ ঘোষণা করেছে।
মালয়েশিয়ার সরকারি এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) থেকে পবিত্র জিলহজ মাস শুরু হবে। সেই অনুযায়ী, আগামী ২৭ মে (বুধবার) দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
অন্য দিকে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া বলেছে, দেশটিতে আগামী ১৮ মে (সোমবার) জিলহজ মাসের প্রথম দিন এবং ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে। ইন্দোনেশিয়ার ৮৮টি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পরিচালিত নতুন চাঁদ দেখার ফলাফলের ভিত্তিতে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ধর্মমন্ত্রী নাসারুদ্দিন উমর।
সাধারণত সৌদি আরবে উদযাপনের পরদিন বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়। তবে বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা কবে অনুষ্ঠিত হবে তা আগামীকাল (সোমবার) জানা যাবে। হিজরি ১৪৪৭ সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা ও ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে সোমবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ইসলামের ১২ মাসের সূচনা হয়। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার মাধ্যমে হজ ও পবিত্র ঈদুল আজহার দিন নির্ধারণ করা হয়। সেই অনুযায়ী, ঈদুল আজহার প্রথম দিন জিলহজ মাসের ১০ম দিনে পড়ে। আর পবিত্র আরাফাহ দিবস পালন করা হয় জিলহজ মাসের নবম দিনে।
পবিত্র ঈদুল আজহায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের সামর্থ্যবান মুসলিমরা গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, উট প্রভৃতি কোরবানি করেন। আরাফাহর দিনে হজযাত্রীরা আরাফাহ ময়দানে প্রার্থনা করার জন্য একত্রিত হন; যেখানে ইসলাম ধর্মের শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার চূড়ান্ত খুতবা দিয়েছিলেন। সারা বিশ্বের মুসলমানরা এই দিনে রোজাও রাখেন।