পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। যেখানে বাংলাদেশের করা প্রথম ইনিংসের ২৭৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৩২ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারিয়ে ১১০ রান করেছে। এর ফলে লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৬ রান।
এর আগে সিলেট টেস্টের প্রথম দিনে লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে ২৭৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে বিনা উইকেটে ২১ রান সংগ্রহ করে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছিল পাকিস্তান।
আজ রোববার দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশকে জোড়া সাফল্য এনে দেন পেসার তাসকিন আহমেদ। দলীয় ২৩ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে সাজঘরে পাঠান এই টাইগার পেসার। আব্দুল্লাহ ফজল ৯ ও আজান আওয়াইস ১৩ রান করে ফিরে যান।
এরপর অধিনায়ক শান মাসুদকে সঙ্গে নিয়ে শুরু এই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বাবর আজম। ৩৮ রানের জুটি গড়েন তারা। এরপর পাকিস্তান শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
শান মাসুদ ২১ ও সৌদ শাকিল ৮ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। এরপর সালমান আগাকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন বাবর। ৩০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান সংগ্রহ করে মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেছে পাকিস্তান।
মধ্যাহ্নভোজ থেকে ফিরে দুই সেট ব্যাটসম্যান বাবর আজম ও সালমান আগাকে ফেরায় বাংলাদেশ। এই জুটি ৯১ বলে ৬৩ রান তুলে প্রতিরোধ গড়েছিল। তবে ৪০তম ওভারে নাহিদ রানার শিকারে পরিণত হন বাবর। এই তারকা ব্যাটার ৮৪ বলে ১০টি চারে ৬৮ করে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দেন। এরপর ২১ রান করা সালমান তাইজুলের বলে মুমিনুল হককে ক্যাচ দেন।
শেষদিকে তাইজুলের ঘূর্ণি ও নাহিদ রানার তোপে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। ব্যক্তিগত ১৩ রান করে তাইজুলের বলে বোল্ড হন মোহাম্মদ রিজওয়ান। এই বাঁহাতি স্পিনার ১৮ রান করা হাসান আলীকেও ফেরান।
সাজিদ খান ঝড়ো ২৮ বলে ২টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৩৮ রান তোলেন। তিনি তাইজুলের পর পর তিন বলে তিনটি ছক্কা হাঁকান। তার ব্যাটেই ২০০ পার হয় পাকিস্তান। অবশেষে তাকে ফেরান নাহিদ। এই পেসার ১০ রান করা খুররাম শাহজাদকেও আউট করেন। পাকিস্তান ৫৭.৪ ওভারে ২৩২ রানে অলআউট হয়।
বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট পান নাহিদ ও তাইজুল।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১৫ রানে অভিষিক্ত তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত ৪ রানে খুররাম শাহজাদের বলে আউট হন তিনি।
তবে এরপর মুমিনুল হকে নিয়ে ৯১ বলে দ্রুত ৭৬ রান তোলেন মাহমুদুল হাসান জয়। ফিফটি করে ফেরেন জয়। তিনি ৬৪ বলে ১০টি চারে ৫২ রানে মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হন।
স্বাগতিকদের ২৬তম ওভারের চতুর্থ বলে সেট ব্যাটসম্যান মুমিনুল আউট হন। তিনি খুররামের বলে ৬০ বলে ৩০ রান করেন। এরপরই আম্পায়ার দিনের খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করেন।