আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে সামরিক এয়ার শোর প্রদর্শনী চলাকালে মাঝ আকাশে সংঘর্ষে বিধ্বস্ত হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি অত্যাধুনিক ইএ–১৮জি গ্রাউলার যুদ্ধবিমান। তবে দুর্ঘটনার কয়েক মুহূর্ত আগে বিমানে থাকা চারজন ক্রু সদস্যই ইজেক্ট করে প্যারাশুটের মাধ্যমে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
রোববার মাউন্টেন হোম এয়ার ফোর্স বেসে অনুষ্ঠিত ‘গানফাইটার স্কাইজ’ এয়ার শো চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রদর্শনী উড্ডয়নের সময় দুটি যুদ্ধবিমান অত্যন্ত কাছাকাছি চলে এলে একপর্যায়ে মাঝ আকাশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমান দুটি ঘাঁটির উত্তর-পশ্চিমে প্রায় দুই মাইল দূরে ভূপাতিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাটিতে আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গেই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষের কয়েক সেকেন্ড পর আকাশে চারটি প্যারাশুট খুলে যায়। এতে নিশ্চিত হওয়া যায়, চারজন ক্রু সদস্যই সময়মতো যুদ্ধবিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মুখপাত্র কমান্ডার অ্যামেলিয়া উমায়াম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যুদ্ধবিমান দুটি ওয়াশিংটনের নেভাল এয়ার স্টেশন হুইডবি আইল্যান্ড ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। এগুলো ভিএকিউ–১২৯ স্কোয়াড্রনের অন্তর্ভুক্ত, যারা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সামরিক বাহিনীর দাবি, চারজন ক্রু সদস্যই জীবিত আছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো বেসামরিক হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তাজনিত কারণে সঙ্গে সঙ্গেই এয়ার শোর বাকি কার্যক্রম বাতিল করা হয়। পাশাপাশি সাময়িকভাবে সামরিক ঘাঁটিতে লকডাউন জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইএ–১৮জি গ্রাউলার যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান, যা শত্রুপক্ষের রাডার, যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক অকার্যকর করতে ব্যবহৃত হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উন্নত যুদ্ধবিমানের মাঝ আকাশে সংঘর্ষ অত্যন্ত বিরল ঘটনা।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রদর্শনী উড্ডয়নের সময় অত্যন্ত ঘন ফরমেশনে চলাচলের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি মার্কিন নৌবাহিনী।