তোমাতে বিলীন 306
খালিদ রিয়াজ 306
মাঝে মাঝেই ফুল কিনি আমি,
দেওয়া হয় না তো তোমায়,
সব ফুলই তো তোমার জন্য—
ভুলে যেও না কিন্তু আমায়!
তোমার প্রেমে ব্যাকুল আমি,
রেখো আমায় বুকের ভেতর,
আমি তোমার সব হতে চাই—
সুখে-দুঃখে, দিবা-নিশি, জনমভর।
অনেক সাধের আইসক্রিমও
তোমায় ছাড়া বড্ড পানসে,
তুমি যখন রাগে ফোঁসো,
আমি তখন ভিতু মিনষে!
তুমি আমার স্বর্গীয় মাদকতা,
তোমাতেই যেন মিশে আছে—
মৃগনাভির সব সুগন্ধ;
হে মৃগনয়না, তুমি শুধু আমার,
আমি যে তোমাতেই অন্ধ!
অপ্সরী প্রিয়া তুমি আমার,
যেন জান্নাতেরই কোনো হুর!
বিমোহিত আমি, ব্যাকুল আমি—
শুনে তোমার সুকণ্ঠী সুর।
হে আমার সুনেত্রা,
ধরিত্রীর এক বিষ্ণুপ্রিয়া,
তোমার হিয়াতেই বাঁধা পড়েছে
আজ আমার এই অবুঝ হিয়া;
আমি কি তবে তোমারই ছায়া?
পথ ধরে একা হেঁটে চলি,
আপন মনেই কথা বলি,
ওগো তুমি আমার কৃষ্ণকলি!
তোমার কৃষ্ণকালো কেশের সুবাসে—
আমি যেন এক বিভোর পরবাসী।
তোমার বাঁকা ঠোঁটের ওই হাসি,
সে তো ক্ষুরধার, সর্বনাশী!
তবু আমি সেই ভালোবাসায় ভাসি,
বারবার তাই তোমার কাছেই—
ছুটে ছুটে আসি, হে প্রেয়সী!
আমি উন্মাদ বড্ড উন্মাদ
আর তুমি আমার আঁধার রাতের—
জ্যোৎস্না বিলাসিনী চাঁদ।
মধু-মিশেল তোমার ওই চাহনি,
তুমি স্বর্গ থেকে নেমে আসা—
আমার প্রিয়তমা রমণী।
তুমি আমার নয়নতারা,
তোমাতেই আমি দিশেহারা!
গগনস্পর্শী তোমার রূপের মাধুরী,
তোমার চরণকমল তলে যেন—
ধরাধামের সব ঐশ্বর্যও তুচ্ছ হেরি।
তুমি তুলনাহীনা, তুমি সুরের বীণা,
ওগো, তুমিহীনা আমি যে বাঁচব না!
শয়নে-স্বপনে, চোখেরও নয়নে,
মনেরও গহনে রেখেছি তোমারে—
নিজেরে বিলিয়ে, নিজেরে হারায়ে…
দেবে কি ধরা? মিনতি করি—
তুমি মোর বাগিচার সদ্য প্রস্ফুটিত কলি।
তুমি আমার প্যাথেডিন,
তোমায় ছুঁয়ে থাকলেই—
আমি ভালো থাকি রাতদিন।
হে শ্রীমতী, তুমি আমার
নিত্যদিনের ভাবনা, রাতের স্বপন।
যদি কখনো ভুল করে ফেলি,
খুব করে বকে দিও—কিন্তু ছেড়ে যেও না প্লিজ!
আমার শুধু তোমারই তো অভাব, অন্য কিছুর নয়,
হিসেব কষে কখনো কি আর ভালোবাসা হয়?
তুমি ভালোবাসো বলেই আমি ধন্য,
তোমাতেই আমি আজ পরিপূর্ণ…