আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
প্রথমবারের মতো নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি নিয়ন্ত্রিত গ্লাইড বোমা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার শুরু করেছে ইউক্রেন। নতুন এই দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাতকারী অস্ত্র রুশ বাহিনীর পেছনের সারির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।
ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ‘ভিরিভনিউভাচ’ নামের এই বোমাটি মাত্র ১৭ মাসে তৈরি করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন কেন্দ্রের প্রকৌশলীরা। অস্ত্রটি মূলত শত্রুপক্ষের রসদ সরবরাহ কেন্দ্র, সামরিক ঘাঁটি এবং সেনা সমাবেশে দূর থেকে আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
বোমাটিতে ২৫০ কেজি বিস্ফোরক বহনের সক্ষমতা রয়েছে এবং এটি কয়েক ডজন কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে। এর ফলে ইউক্রেনের যুদ্ধবিমানগুলো রাশিয়ার শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা অঞ্চলে প্রবেশ না করেই নিরাপদ দূরত্ব থেকে আক্রমণ চালাতে পারবে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, এটি কোনো বিদেশি প্রযুক্তির অনুকরণ নয়; বরং সম্পূর্ণ নিজস্ব পরিকল্পনা ও প্রকৌশল দক্ষতায় তৈরি করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই এই অস্ত্রের নকশা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্রটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কম উৎপাদন ব্যয়। পশ্চিমা প্রযুক্তির তুলনায় অনেক কম খরচে এটি তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা যাবে।
নতুন এই গ্লাইড বোমা ইউক্রেনের বর্তমান যুদ্ধবিমান বহরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। তবে সব ধরনের যুদ্ধবিমানে ব্যবহারের আগে কিছু প্রযুক্তিগত সংযুক্তি ও অনুমোদনের কাজ এখনো বাকি রয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অস্ত্রের অন্তর্ভুক্তি ইউক্রেনের যুদ্ধকৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ড্রোনের তুলনায় বেশি বিস্ফোরক বহনের সক্ষমতা থাকায় এটি রাশিয়ার সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনায় আরও বিধ্বংসী আঘাত হানতে সক্ষম হবে।