• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

ঐতিহাসিক মসজিদকে ফের মন্দির ঘোষণা

প্রতিবেদক / ৩২ বার
আপডেট : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার শহরের ঐতিহাসিক কামাল মাওলা মসজিদকে আদালতের রায়ে ‘বাগদেবী মন্দির’ ঘোষণা করার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মধ্যযুগীয় এই স্থাপনাকে কেন্দ্র করে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, একের পর এক মসজিদকে মন্দির দাবি করার প্রবণতা কি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে বদলে দিচ্ছে?

ধার শহরের ভোজশালা কমপ্লেক্সের অংশ কামাল মাওলা মসজিদ বহু দশক ধরে মুসলিমদের উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ৭৮ বছর বয়সী মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ রফিক প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে সেখানে আজান দিয়ে আসছেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে মসজিদটির সম্পর্ক আরও পুরোনো। ব্রিটিশ আমলে তাঁর দাদা হাফিজ নাজিরুদ্দিন সেখানে ইমামতি করতেন। তবে সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ উচ্চ আদালতের এক রায়ের পর মুসলিমদের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এই মসজিদ।
আদালতে হিন্দুপক্ষ দাবি করে, মসজিদ নির্মাণের আগে সেখানে হিন্দু দেবী সরস্বতীর মন্দির ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত রায় দেয়, এটি মূলত একটি হিন্দু মন্দির ছিল। এরপরই ভোজশালা চত্বরে গেরুয়া পতাকা টানানো হয় এবং সেখানে হিন্দু ধর্মীয় আচার শুরু হয়। এমনকি দেবীর অস্থায়ী মূর্তিও স্থাপন করা হয়েছে।

মোহাম্মদ রফিক ভারতীয় গণমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শুক্রবার পর্যন্ত এটি আমাদের মসজিদ ছিল। আজ আমরা সেখানে যেতে পারছি না। এমন দিন দেখতে হবে কখনো ভাবিনি।”
ভারতে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক মসজিদকে মন্দির দাবি করার প্রবণতা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাবরি মসজিদ, জ্ঞানবাপী মসজিদ ও শাহি ইদগাহের পর এবার কামাল মাওলা মসজিদকে ঘিরেও একই ধরনের দাবি সামনে এসেছে। এমনকি তাজমহলের নিচেও মন্দির খোঁজার দাবি তোলা হয়েছিল, যদিও সেটি কোনো মসজিদ নয়, বরং একটি সমাধিসৌধ।

ইতিহাসবিদ অড্রে ট্রুশকে আল জাজিরাকে বলেন, ভারতে বর্তমানে যেভাবে মসজিদগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, তা হিন্দু জাতীয়তাবাদের গভীরে থাকা ইসলামভীতির বহিঃপ্রকাশ। তাঁর মতে, মুসলিম সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কোণঠাসা করার অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
১৯৯১ সালের ‘উপাসনালয় আইন’ অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময় যেকোনো উপাসনালয়ের ধর্মীয় চরিত্র যেমন ছিল, তা পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু সমালোচকদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক রায়গুলোতে সেই আইনের চেতনা উপেক্ষা করা হচ্ছে। মুসলিমপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, বাবরি মসজিদের রায়ের পর থেকেই এ ধরনের দাবির পথ খুলে গেছে। তাঁর ভাষায়, “এটা শুধু একটি মসজিদের প্রশ্ন নয়। ভারতের মুসলিমদের ধর্মীয় অস্তিত্ব নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।”
১৯৯২ সালে উগ্র হিন্দুত্ববাদী জনতা বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার পর ভারতে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০১৯ সালে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সেই জায়গা রামমন্দির নির্মাণের জন্য হিন্দুদের হাতে তুলে দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই সেই মন্দির উদ্বোধন করেন। দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনৈতিক স্লোগান ছিল— “অযোধ্যা তো শুধু ঝাঁকি, কাশী-মথুরা এখনো বাকি।”

এখন কামাল মাওলা মসজিদকে ঘিরে নতুন এই বিতর্ক সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করেছে। সমালোচকদের দাবি, আদালত ও প্রশাসনের একাংশের নীরব সমর্থনে ভারতে ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর চরিত্র বদলে দেওয়ার যে প্রবণতা শুরু হয়েছে, তা দেশটির বহুত্ববাদী ঐতিহ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র : আল জাজিরা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা