বিনোদন ডেস্কঃ
মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি এক স্বপ্ন দেখেছিলেন—একদিন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও করতালিতে মুখর হবে তার চারপাশ। দিল্লির বসন্ত কুঞ্জের ছোট্ট ঘরে বসে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে নিজেকে কল্পনা করতেন এক বিশাল মঞ্চে। সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ নেয় ১৯৯৪ সালের ২১ মে, যখন ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সুস্মিতা সেন জিতে নেন ‘মিস ইউনিভার্স’ খেতাব।
ঐতিহাসিক সেই অর্জনের ৩২ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগঘন নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
সুস্মিতা জানান, তার স্বপ্নের অন্যতম অনুপ্রেরণা ছিলেন ভারতের প্রথম মহাকাশচারী রাকেশ শর্মা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“রাকেশ শর্মা মহাকাশে গিয়েছিলেন, আর আমি চেয়েছিলাম মিস ইউনিভার্সকে ছুঁতে। মানুষের এত ভালোবাসা পাওয়ার অনুভূতিটা আমাকে সবসময় টানত। আমি যেন আগে থেকেই সেই মুহূর্ত অনুভব করতে পারতাম। তখনই বিশ্বাস করেছিলাম—এটা আমার পক্ষেও সম্ভব।”
মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে বিজয়ীর নাম ঘোষণার মুহূর্তটিও এখনও স্পষ্টভাবে মনে রেখেছেন অভিনেত্রী।
তার ভাষায়,“সব আলো নিভে গিয়ে যখন শুধু একটি স্পটলাইট আমার ওপর এসে পড়ল, তখন মনে হয়েছিল পুরো ইউনিভার্স যেন আমাকে বলছে—তুমি ঠিক পথেই আছো। সেই মুহূর্তে বুঝেছিলাম, ভারত ইতিহাস গড়েছে।”
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বিচারকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সুস্মিতা যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা আজও ভক্তদের মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তিনি বলেছিলেন,
“নারী হওয়া স্রষ্টার এক অসাধারণ উপহার।”
তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নিজের সেই বিশ্বাসে এখনও অটল তিনি। সুস্মিতার মতে, একজন নারী শুধু নতুন প্রাণের জন্ম দেন না; তিনি ভালোবাসা, মমতা ও ভাগ করে নেওয়ার শিক্ষাও দেন। আর সেখানেই নিহিত নারীত্বের প্রকৃত সৌন্দর্য।
তবে খ্যাতির আড়ালের চাপ নিয়েও অকপট ছিলেন এই অভিনেত্রী। তিনি স্বীকার করেন, মিস ইউনিভার্স হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নিজেকে ‘নিখুঁত’ দেখানোর এক অদৃশ্য চাপ অনুভব করেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে উপলব্ধি করেছেন—প্রকৃত সৌন্দর্য বাহ্যিক আভায় নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বের গভীরে লুকিয়ে থাকে।
সুস্মিতা আরও বলেন,
“মানুষ মনে করে আমার পথচলা খুব সহজ ছিল। কিন্তু আমিও অন্য সবার মতো ভয়, অনিশ্চয়তা আর দুর্বলতার মধ্য দিয়ে গেছি। পার্থক্য শুধু এতটুকুই—আমি খুব দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে শিখেছি।”