আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক ফ্লোটিলার কর্মীদের আটক অবস্থায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে অমানবিক নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার মুক্তি পাওয়া একাধিক কর্মী দাবি করেছেন, আটক থাকার সময় তারা শারীরিক নির্যাতনসহ ভয়াবহ যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫ জন কর্মীর ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধও রয়েছে।
ফ্লোটিলা পরিচালনাকারী সংগঠনের তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে প্রায় ৪৩০ জন কর্মীকে আটক করা হয়। পরে তাদের একটি অস্থায়ী বন্দিশালায় রাখা হয়, যেখানে কনটেইনার ও কাঁটাতারের বেড়া ব্যবহার করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাদের ওপর অপমানজনক দেহ তল্লাশি, শারীরিক আঘাত, টেজার ব্যবহারের মাধ্যমে নির্যাতন এবং দীর্ঘ সময় খাবার ও পানির অভাবের মতো পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়। অনেকের হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের কথাও তারা জানান।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ইতালির রোমে এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মন্তব্য করেছে। অন্যদিকে কয়েকজন আহত কর্মী চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষ। এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।