আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত যুদ্ধ ড্রোন প্রযুক্তি। প্রথাগত যুদ্ধবিমানের বাইরে গিয়ে এবার ‘লয়াল উইংম্যান’ ও স্টেলথ ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান।
সম্প্রতি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ জহির আহমেদ বাবর সিধুর তুরস্ক সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সফরে তাকে তুরস্কের তৈরি অত্যাধুনিক স্টেলথ ড্রোন ‘বাইরাক্তার কিজিলএলমা’র সঙ্গে দেখা যায়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান তুরস্ক ও চীনের সহযোগিতায় নিজস্ব এআইনির্ভর যুদ্ধবিমান সক্ষমতা গড়ে তুলতে চায়।
‘কিজিলএলমা’ ড্রোনের গতি প্রায় ০.৯ মাক এবং এটি প্রায় ১ হাজার ৫০০ কেজি অস্ত্র বহনে সক্ষম। এতে ব্যবহৃত হয়েছে অত্যাধুনিক ‘মুরাদ’ এইসা রাডার। ২০২৫ সালে ড্রোনটি ‘গোকদোগান’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়, যা ৬৫ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রস্তুতির বিপরীতে ভারত মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের তৈরি ‘এমকিউ-২৮ ঘোস্ট ব্যাট’ ড্রোনের দিকে নজর দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে ড্রোনটির প্রযুক্তি ও যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ভারতীয় বিমান বাহিনী।
‘ঘোস্ট ব্যাট’ মূলত এফ-৩৫ ও এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে ‘লয়াল উইংম্যান’ হিসেবে কাজ করার জন্য তৈরি। গোয়েন্দা নজরদারি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম এই ড্রোনকে ভবিষ্যৎ আকাশযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনের যুদ্ধ কেবল যুদ্ধবিমাননির্ভর থাকবে না। বরং এআই প্রযুক্তি, নেটওয়ার্কভিত্তিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং চালকবিহীন ড্রোনই নির্ধারণ করবে আকাশসীমায় কার আধিপত্য থাকবে।