আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ভারতের মুম্বাইয়ের বান্দ্রা স্টেশন সংলগ্ন গরিব নগর ও পাম্পাপুরা এলাকায় রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে তীব্র মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। গত ১৯ মে শুরু হওয়া অভিযানে শত শত ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং দুটি পুরনো মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, উচ্ছেদের সময় তাদের ‘বাংলাদেশি’ ও ‘রোহিঙ্গা’ বলে অপমান করা হয়েছে, যদিও তাদের কাছে বৈধ ভারতীয় নাগরিকত্বের নথি রয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বান্দ্রা টার্মিনাস সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তীব্র গরমের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন শত শত মুসলিম ও দলিত পরিবার। সামনে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আসিফ জানান, এলাকায় প্রায় ৫০০টির বেশি ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তার অভিযোগ, পুলিশ বাসিন্দাদের জিনিসপত্র সরানোরও পর্যাপ্ত সময় দেয়নি।
পশ্চিম রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা বিনীত অভিষেক দাবি করেন, এটি অবৈধ দখল উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সরকারের দ্রুততম পদক্ষেপগুলোর একটি এবং ২৩ মে পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।
উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের অনেকে ভোটার আইডি ও রেশন কার্ড দেখিয়ে নিজেদের ভারতীয় নাগরিক দাবি করেন। বাসিন্দা মুনাওয়ার শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোটের সময় আমরা ভারতীয়, আর ভোট শেষ হলেই বাংলাদেশি হয়ে যাই।”
অভিযানে ‘মসজিদ-ই-ইনআম’ ও ‘ফয়জানে মুস্তফা গরিব নগর মসজিদ’ নামে দুটি পুরনো মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন আগে আশ্বাস দিয়েছিল যে উপাসনালয়ে হাত দেওয়া হবে না। মসজিদ ভাঙার আগে পবিত্র কোরআন ও অন্যান্য সামগ্রী সরানোর জন্য খুব অল্প সময় দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন বাসিন্দারা।
মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে মারধর ও আটক করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে পাশের পাম্পাপুরা এলাকাতেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে একটি আম্বেদকারবাদী সংগঠনের কার্যালয় এবং বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের ছবি ও মূর্তিও ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই বান্দ্রা স্টেশনের আশপাশ, ফুটপাত ও ব্রিজের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো খাবার ও পানি বিতরণ করলেও এখন পর্যন্ত সরকারি পুনর্বাসনের কোনো ঘোষণা আসেনি।