• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

ইরান যুদ্ধের পর চাপে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহে বিরতি

প্রতিবেদক / ৩৫ বার
আপডেট : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’র পর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

এ অবস্থায় তাইওয়ানের জন্য অনুমোদিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হাং কাও সিনেট কমিটিকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিশ্চিত করতেই তাইওয়ানের অস্ত্র সরবরাহ প্রক্রিয়ায় ‘পজ’ দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অস্ত্র মজুত নিয়ে আত্মবিশ্বাসের কথা বলা হচ্ছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে ৪০ দিনের সংঘাতে ইসরায়েলকে সহায়তা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। যুদ্ধবিরতির আগে মার্কিন বাহিনী ২০০টির বেশি ‘থাড’ (THAAD) ইন্টারসেপ্টর এবং শতাধিক স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৩ (SM-3) ও স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬ (SM-6) ব্যবহার করে।

এদিকে থিঙ্কট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (CSIS) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি যুদ্ধাস্ত্রের অর্ধেকেরও বেশি মজুত ইতোমধ্যে খরচ করে ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে এক হাজারের বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র। এই ঘাটতি পূরণে প্রতিরক্ষা শিল্পের এক থেকে চার বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দোহার ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের সামরিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ওমর আশুর বলেন, এটি শুধু অস্ত্রের ঘাটতি নয়, বরং একটি “কৌশলগত অস্ত্র সংকট”, যার প্রভাব বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতেও পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের এই চাপ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউক্রেন এবং উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চললেও করোনা-পরবর্তী সরবরাহ সংকট, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত গতিতে বাড়ছে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্য এখনও শক্তিশালী থাকলেও অস্ত্রভাণ্ডার আর আগের মতো সীমাহীন নয়। আর এই বাস্তবতা ভবিষ্যতের বিশ্ব রাজনীতি ও সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা