আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেনেগালে আকস্মিক ও নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী উসমান সোনকোকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে। একই সঙ্গে তিনি পুরো সরকার বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
শুক্রবার (২২ মে) রাতে দেওয়া এক জরুরি ডিক্রিতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানায়, প্রধানমন্ত্রী সোনকোর দায়িত্বের অবসান ঘটানো হয়েছে এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদেরও বরখাস্ত করা হয়েছে। নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত বিদায়ী প্রশাসনকে কেবল দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে সেনেগালের রাজনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ফায়ের ক্ষমতায় আসার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল উসমান সোনকোর। তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় এই নেতা একসময় ফায়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী ও প্রধান সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
কারাগার থেকে মুক্তির পর দুজনের রাজনৈতিক জোট নির্বাচনে ব্যাপক বিজয় এনে দেয়। ক্ষমতায় এসে ফায়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সোনকোকে নিয়োগ দেন। তবে গত কয়েক মাসে নীতি ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে।
সোনকো একাধিকবার প্রকাশ্যে সরকারের নীতির সমালোচনা করেন, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ফায়ে তার একক প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
অর্থনৈতিক সংকটও এই দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করেছে।
সেনেগাল বর্তমানে ঋণ সংকটে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি স্থগিত রয়েছে। ঋণ ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি নীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই নেতার অবস্থান ভিন্ন ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার এই সিদ্ধান্ত সেনেগালকে নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তবে বরখাস্তের পর সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে উসমান সোনকো বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আজ রাতে আমি শান্ত মনে ঘুমাতে যাব।”