আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের বিষয়ে নীতিগত সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা। তার দাবি, সম্ভাব্য এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এখনো চূড়ান্তভাবে কোনো চুক্তি সই হয়নি। বিষয়টি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।
মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান কীভাবে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ করবে, তা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে, এসব উপাদানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হোক।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই এই সম্ভাব্য সমঝোতার খবর সামনে আসে। একদিকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুমকি দিয়েছেন, অন্যদিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়াতে আলোচনা এগোচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, “শান্তি সম্পর্কিত” একটি সমঝোতা স্মারকের অধিকাংশ বিষয়েই দুই দেশ একমত হয়েছে।
রবিবার ট্রাম্প আরও জানান, সম্ভাব্য চুক্তি অনুমোদিত হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হতে পারে। এই অবরোধের মাধ্যমেই তেহরানকে হরমুজ প্রণালী খুলতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
এদিকে, ইরানের তিনজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে। উভয় পক্ষই এটিকে একটি প্রাথমিক কাঠামো হিসেবে দেখছে, যা ভবিষ্যৎ সমঝোতার পথ তৈরি করবে।সম্ভাব্য এই চুক্তি নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না—এই অবস্থানে তিনি ও ট্রাম্প একমত।
অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ চলমান থাকায় এই সমঝোতা অঞ্চলটির সামগ্রিক সংকট কতটা কমাতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসেও এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর কোরি বুকার দাবি করেছেন, এই চুক্তিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প “প্রতারণার শিকার” হতে পারেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার একে “বিপর্যয়কর প্রস্তাব” বলে আখ্যা দিয়েছেন।