আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে আরব বিশ্বের নেতারা কূটনৈতিক সমাধানে এগিয়ে আসতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পাকিস্তানও এই উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাকায়ী জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছে এবং ১৪ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এতে যুদ্ধবিরতি, মার্কিন নৌ তৎপরতা বন্ধ এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা শেষে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে আরব বিশ্বের শীর্ষ নেতারা ট্রাম্পকে ইরানের প্রস্তাব গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। এক উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপে তারা দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ট্রাম্পের “শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা”র প্রশংসা করে বলেন, বহুপাক্ষিক এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ওই আলোচনায় সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের নেতারা অংশ নেন।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন সেনাপ্রধান আসিম মুনির।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ও ইরানের পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে যে সংকট তৈরি হয়েছে, এই আলোচনা তা নিরসনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
এদিকে শনিবার শাহবাজ শরীফ আবারও ট্রাম্পের “অসাধারণ শান্তি প্রচেষ্টা”র প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক।