আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটাতে ইরানের সাথে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুতই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সবকটি কৌশলগত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বর্তমানে ভারত সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোববার (২৪ মে) নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মনে করি, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববাসী হয়তো একটি বড় সুখবর পেতে যাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এই চুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি সুবিধাজনক ও নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে যাবে, যেখানে ইরানকে আর কেউ পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে ভয় বা চিন্তা করবে না।
এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায়, সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া অনুযায়ী ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ সরে যেতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানসহ অন্যান্য দেশের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, যা এখন কেবল আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এই চুক্তির আওতায় বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তবে ইরানের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সম্ভাব্য চুক্তিটি রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। সিনেটর টেড ক্রুজ এবং সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর মতো নেতারা তেহরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
দলীয় এই সমালোচনার জবাবে নয়াদিল্লি থেকে মার্কো রুবিও বলেন, ইরানে ‘এপিক ফিউরি’ নামের সামরিক অভিযান শুরুর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে শক্তিশালী ভূমিকা দেখিয়েছেন, তা আমেরিকার আগের কোনো প্রেসিডেন্ট দেখাতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং দেশটির দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাসহ সামগ্রিক প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য শতভাগ অর্জিত হয়েছে।