• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

নকশা পরিবর্তন ও মামলা জট: পাবনার ইছামতি নদী উদ্ধার প্রকল্প নিয়ে জনমনে সংশয়

প্রতিবেদক / ১২ বার
আপডেট : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

​নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

​পাবনাবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও আন্দোলনের ফসল স্রোতস্বিনী ইছামতি নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। দেড় হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের আওতায় পৌর শহরের প্রধান পাঁচ কিলোমিটার অংশের খননকাজ থমকে আছে। এর ওপর প্রকল্পের মূল নকশা থেকে নদী প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী ১৩টি সেতু পুনর্নির্মাণ এবং নৌপথ তৈরির পরিকল্পনা হঠাৎ বাদ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশেষজ্ঞরা।

পাবনা শহরের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, চার-পাঁচ দশক আগেও এই নদীতে উপচে পড়া স্বচ্ছ জলরাশি ছিল, চলতো বড় বড় নৌকা। এমনকি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক সময় বজরায় চড়ে এই নদী দিয়েই যাতায়াত করতেন এবং এর রূপ নিয়ে কবিতা লিখতেন। তবে গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দখল আর দূষণে নদীটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়লে স্থানীয়রা স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন গড়ে তোলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে তৎকালীন সরকার ১ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন করে। ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদি এই প্রকল্পে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী সব কালভার্ট ও সেতু ভেঙে আধুনিক, সুউচ্চ সেতু নির্মাণের কথা ছিল।

​বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর যৌথ তত্ত্বাবধানে শহরের বাইরের অংশের কাজ দ্রুত এগোলেও শহর অংশের কাজ নতুন করে মামলা জটিলতায় আটকে গেছে। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার প্রকল্পের নকশা সংশোধন (আরডিপিপি) করে বাধা সৃষ্টিকারী ১৩টি সেতু পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনাটি বাদ দিয়েছে।

​এ বিষয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. নাজমুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিবন্ধক সেতুগুলো রেখে নদী খনন করা মানে হলো একটি ড্রেন বা নালা তৈরি করা, নদী উদ্ধার নয়। প্রবাহ রুদ্ধ থাকলে নদী কখনোই তার যৌবন ফিরে পাবে না। এতে হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প কেবল অপচয়েই পর্যবসিত হবে।”

এদিকে, পূর্বের নকশা অনুযায়ী ব্রিজ নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের দাবি জানিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করে একাধারে কাজ করার দাবি জানিয়েছেন ইছামতী নদী উদ্ধার আন্দোলনের সভাপতি এসএম মাহবুব।

​নকশা পরিবর্তনের বিষয়ে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক সুধাংশু কুমার সরকার অবশ্য দাবি করেছেন, নকশা পরিবর্তনে প্রকল্পের খুব বেশি ক্ষতি হবে না। ইতিমধ্যেই ২৬ কিলোমিটার পর্যন্ত খননকাজ শেষ হয়েছে এবং শহর অংশের স্থবিরতার মূল কারণ মামলা জটিলতা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা