আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
১০ গ্রাম খালি করার নির্দেশে নতুন আতঙ্ক
ঘোষিত যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আবারও জোরালো বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সোমবার (২৫ মে) ভোরে দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিহ এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি’ (এনএনএ)।
খবরে বলা হয়, নাবাতিহ অঞ্চলের কাফর রুম্মান-জারমাক হাইওয়ে এবং জারমাক-খারদালি সড়কে চলন্ত তিনটি গাড়িকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। একই সঙ্গে দক্ষিণের টায়ার শহরের আজউন পৌরসভায় ইসরায়েলি হামলায় দুটি বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
হামলার পরপরই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ১০টি গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। আইডিএফের আরবি ভাষার মুখপাত্র কর্নেল আভিচাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দাবি করেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে ইসরায়েল। নাবাতিহ আল-তাহতা, আল-লুইজেহ, সাজদ, আইন কানা ও হারউফসহ ১০ গ্রামের মানুষকে অন্তত এক হাজার মিটার দূরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আল জাজিরার বৈরুত প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে বৈরুত ও এর দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলির আকাশে অত্যন্ত নিচু দিয়ে অনবরত ইসরায়েলি ড্রোন উড়তে দেখা যাচ্ছে, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহর পাল্টা ড্রোন হামলায় দক্ষিণ লেবাননে এক ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে আইডিএফ। এতে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর নিহত ইসরায়েলি সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল মার্কিন মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয় এবং পরে এর মেয়াদ জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে চুক্তি কার্যকরের পরও লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক বিবৃতিতে বলেছেন, লেবাননের মাটি থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ‘অ-আলোচনাযোগ্য’। অন্যদিকে নাইম কাশেম সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো আলোচনার বিরোধিতা করে অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।