আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি) এবং উগান্ডায় প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এটিকে কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়েসুস জানিয়েছেন, চলমান প্রাদুর্ভাবে সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২২০ জনে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জরুরিভিত্তিতে কার্যক্রম বাড়াচ্ছি, তবে সংক্রমণের গতি আমাদের চেয়েও দ্রুত এগোচ্ছে।” আক্রান্ত শনাক্তে বিলম্ব এবং তথ্য সংগ্রহের জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত ৯০০-এর বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। উগান্ডায় নতুন করে দুই স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হওয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাতজনে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী কামপালার একটি বেসরকারি হাসপাতালেই তারা সংক্রমিত হন বলে জানা গেছে।
এবারের প্রাদুর্ভাবে ইবোলার বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এই স্ট্রেনের জন্য এখনো নির্দিষ্ট কোনো স্বীকৃত ভ্যাকসিন বা কার্যকর চিকিৎসা নেই। গত সপ্তাহে ডব্লিউএইচও এটিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এদিকে কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত করতে হাসপাতাল ও আইসোলেশন সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মংবওয়ালু জেনারেল হাসপাতালে ক্ষুব্ধ জনতা প্রবেশ করে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) পরিচালিত একটি অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্রেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যার ফলে ১৮ জন সন্দেহভাজন রোগী পালিয়ে যায় এবং তারা এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মৃতদেহ দাফনের দায়িত্ব সরকারিভাবে নেওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উত্তর-পূর্ব কঙ্গোতে শেষকৃত্য এবং ৫০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে সরকার।