আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক “প্রতিরোধ ও মুক্তি দিবস” উপলক্ষে দেশটির সরকার, জনগণ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে অভিনন্দন জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে লেবানন ও হিজবুল্লাহর প্রতি নিজেদের অবিচল সমর্থনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পৃথক বার্তায় লেবাননের সংসদের স্পিকার নাবিহ বেরি এবং হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেমের প্রতি সমর্থনের কথা জানান। তিনি বলেন, ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লেবাননের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইরান সবসময় পাশে থাকবে।
২০০০ সালে লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের স্মরণে এই দিনটি উদযাপিত হয়, যাকে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক অর্জন হিসেবে দেখা হয়।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হিজবুল্লাহর কঠোর সমালোচনা করে সংগঠনটিকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেন এবং লেবাননের জনগণকে প্রতিবাদের আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্যের মধ্যেই ইরানের প্রকাশ্য সমর্থন নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য কোনো সমঝোতায় লেবানন যুদ্ধের ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। চলমান সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, নতুন মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করছে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি বা কোনো রাজনৈতিক সমঝোতায় লেবানন ও হিজবুল্লাহকে একা ফেলে দেওয়া হবে না।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, আর বড় শক্তিগুলোর অবস্থান সংঘাতকে নতুন দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।