নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
চন্দ্রায় বাস কাউন্টার হঠাৎ বন্ধ: বৃষ্টিতে ভিজে ট্রাক-পিকআপে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা, চরম ভোগান্তি উত্তরবঙ্গে
চন্দ্রায় শতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধ, টানা বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে লক্ষাধিক যাত্রী।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় প্রশাসনের নির্দেশে একযোগে শতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরবঙ্গগামী লক্ষাধিক যাত্রী। টানা বর্ষণের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্দশা মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, একতা পরিবহন, নাবিল পরিবহন, শ্যামলীসহ প্রায় সব পরিবহনের কাউন্টারগুলোতে তালা ঝুলছে। কাউন্টার বন্ধ থাকায় টিকিট কাটতে এসে হাজারো যাত্রী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। মহাসড়কজুড়ে দীর্ঘ যানজট ও থেমে থাকা বাসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বৃষ্টিতে ভিজে ট্রাকে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা।
বিকল্প না পেয়ে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রাক ও পিকআপে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যের পথে রওনা হচ্ছেন। এতে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। টানা বৃষ্টিতে ভিজে অনেক শিশু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
গাইবান্ধাগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন,
“রাত থেকে দাঁড়িয়ে আছি। বাচ্চা নিয়ে ভিজতে ভিজতে শেষ। বাধ্য হয়ে ট্রাকে উঠছি।”
রংপুরগামী শাহানাজ বেগম বলেন,
“আমার মেয়েটা ঠান্ডায় কাঁপছে। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।”
পুলিশের নির্দেশে কাউন্টার বন্ধের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যানজট ও বৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় পুলিশের নির্দেশে কাউন্টারগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
নাওজোড় হাইওয়ে থানার পুলিশ জানায়, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা এড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।
সমালোচনা ও বিকল্প ব্যবস্থার দাবি
তবে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এ সিদ্ধান্তকে “হঠকারী” বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, কাউন্টার বন্ধ করা সমস্যার সমাধান নয়, বরং নিরাপদ পরিবহন ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন ছিল।
এক যাত্রী আব্দুল কাইয়ুম বলেন,
“এভাবে মানুষকে রাস্তায় ফেলে রাখা কোনো সমাধান নয়।”
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগাম পরিকল্পনার অভাবেই ঈদযাত্রায় প্রতি বছর একই সংকট তৈরি হয়। তাদের মতে, গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেস যাচাই ও অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ করাই কার্যকর সমাধান।
বারবার একই দুর্ভোগ
উত্তরবঙ্গের ২৫ জেলার প্রায় ৩০–৩৫ লাখ মানুষ এই মহাসড়ক ব্যবহার করে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে চন্দ্রা এলাকায় একই ধরনের ভোগান্তি তৈরি হয়—যা যাত্রীদের জন্য এক ধরনের নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।