স্পোর্টস ডেস্কঃ
ইউরোপ সফরে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। দক্ষিণ ইউরোপের ক্ষুদ্র রাষ্ট্র সান মারিনোর বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলতে আগামী ৫ জুন মাঠে নামবে লাল-সবুজরা। ইতালির ভেতরে অবস্থিত এই দেশটিতে নিজস্ব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর না থাকায় ইতালি হয়ে ট্রানজিট নিয়ে সেখানে পৌঁছাতে হবে বাংলাদেশ দলকে।
আগামী রোববার ঢাকা ছাড়বে জাতীয় দলের বহর। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সে করে ইতালির পথে রওনা দিয়ে পরে সেখান থেকে সান মারিনোতে যাবে দল। সফর উপলক্ষে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে।
দলে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন পিডাব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাবের তরুণ ফরোয়ার্ড মিনহাজুল করিম স্বাধীন। তবে সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মোহামেডানের ফরোয়ার্ড সৌরভ দেওয়ানকে প্রাথমিক দলে না রাখায় ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। এক ম্যাচেই চার গোল করা এই ফরোয়ার্ডকে উপেক্ষা করাকে অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে দীর্ঘ প্রায় ৩২ মাস পর জাতীয় দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। এতে গোলপোস্টের লড়াই আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে।
তবে দলের তিন গুরুত্বপূর্ণ মুখ হামজা চৌধুরী, সামিত সোম ও জায়ান আহমেদ ঢাকার ক্যাম্পে যোগ দিচ্ছেন না। তারা নিজ নিজ দেশ—ইংল্যান্ড, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি সান মারিনোতেই দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
জাতীয় দলের আবাসিক শিবির শুরু হয়েছে রাজধানীর একটি হোটেলে। শুরুতে ১৬ জন খেলোয়াড় ক্যাম্পে রিপোর্ট করেন। পরে ধাপে ধাপে অন্যান্য ফুটবলারদের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া জানান, এই সফর নিয়ে দলের মধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে এবং শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়েই তারা মাঠে নামবেন। নতুন কোচের অধীনে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলাকে তিনি বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন।
নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলির অধীনে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় প্রথম অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছে দল। অনুশীলনে ফুটবলারদের মধ্যে ছিল স্বাভাবিক উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস।
বাংলাদেশের প্রাথমিক দলে গোলরক্ষক, রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ মিলিয়ে তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশ্রণ রাখা হয়েছে। ইউরোপ সফরকে সামনে রেখে দল গঠন ও প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
সান মারিনোর বিপক্ষে এই ম্যাচকে বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে নতুন মুখ, নতুন কোচিং স্টাফ এবং ভিন্ন কৌশলের সমন্বয়ে মাঠে নামবে দল।