সিহাব আলম সম্রাট, রাজশাহী
রাজশাহীর পুঠিয়ায় গরু ব্যবসায়ীর হারিয়ে যাওয়া ১০ লাখ ১৯ হাজার টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
জানা গেছে, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বাসিন্দা ও গরু ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম গত ২৭ মে চাঁদরাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী একটি বাসে ফিরছিলেন। পথে তীব্র যানজটের মধ্যে তিনি প্রস্রাবের জন্য বাস থেকে নেমে পড়েন। পরে বাসটি সেখান থেকে চলে এলে তিনি রাজশাহীর উদ্দেশ্যে অন্যভাবে রওনা হন। পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন, তার সঙ্গে থাকা ১০ লাখ ১৯ হাজার টাকার ব্যাগটি বাসেই রয়ে গেছে। এতে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন।
অবস্থায় আজিজুল ইসলাম পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডলের ছেলে ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক রাজনের সহযোগিতা কামনা করেন। বিষয়টি জানার পর রাজন বিভিন্ন সূত্রে খোঁজখবর নিয়ে টাকার সন্ধান পান। পরে যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে পুরো অর্থ প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দেন।
হারানো টাকা ফিরে পেয়ে আজিজুল ইসলাম আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “এই টাকা আমার ব্যবসার মূলধন। টাকা ফিরে না পেলে আমি পথে বসে যেতাম। যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন, বিশেষ করে ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক রাজন, বাসচালক বিশু এবং পুঠিয়ার মানুষদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
বাসচালক বিশু জানান, বাসে একটি ব্যাগ পাওয়ার পর তিনি এর মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। তবে প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করতে না পারায় তা ফেরত দিতে পারেননি। পরে ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক রাজনের মাধ্যমে টাকার মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়। যাচাই-বাছাই শেষে তিনি পুরো অর্থ আজিজুল ইসলামের হাতে তুলে দেন।
বিশু বলেন, “রাজন ভাই অত্যন্ত মানবিক মানুষ। তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখেছেন এবং প্রকৃত মালিকের হাতে পুরো টাকা ফিরিয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন। এতে আমি খুবই আনন্দিত।”
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক রাজন বলেন, “মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একজন গরু ব্যবসায়ীর জীবনের সঞ্চয় ও ব্যবসার মূলধন হারিয়ে গেলে তার পরিবার চরম সংকটে পড়ত। আমরা চেষ্টা করেছি প্রকৃত মালিকের হাতে টাকাটি ফিরিয়ে দিতে। মানুষের উপকার করতে পারাটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”