চিলমারী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের রমনা ঘাটে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় ও জলচ্ছ্বাসে অন্তত ২৫টি নৌকা ডুবে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার বিকেলে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ও জলচ্ছ্বাসে ঘাটে নোঙর করা নৌকাগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। কোদালকাটি গ্রামের নৌকার মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, মালামাল ও যাত্রী নিয়ে যাত্রার প্রস্তুতি চলাকালে জলচ্ছ্বাসে তার নৌকায় থাকা ৫৬ বস্তা সার, দুটি তেলের ড্রাম, সুপারির বস্তাসহ বিভিন্ন মালামাল নদীতে তলিয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও মাত্র তিন বস্তা সার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আরেক নৌকার মালিক আলী হোসেন বলেন, ঘাটে বাঁধা থাকা তার ৬০ হাত দীর্ঘ নৌকাটি জলচ্ছ্বাসের প্রচণ্ড আঘাতে মুহূর্তেই ভেঙে নদীতে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মাজু ইব্রাহিম জানান, আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টিপাত ছিল না। হঠাৎ জলচ্ছ্বাস শুরু হলে তার ২৫ হাত দীর্ঘ নৌকাসহ আশপাশে বাঁধা থাকা আরও কয়েকটি নৌকা ডুবে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ছোট নৌকাগুলো উদ্ধার করা গেলেও বড় নৌকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
চিলমারী রমনা ঘাটের বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা পুতুল রায় জানান, বিকেল ৪টার কিছু আগে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। স্বল্প সময় স্থায়ী হলেও এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চারটি বড় নৌকা ভেঙে ডুবে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিআইডব্লিউটিএর একটি স্পিডবোটও। এছাড়া অন্তত ২০টি ছোট নৌকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে। ডুবে যাওয়া নৌকা ও মালামাল উদ্ধারে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।