আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ভারতের উত্তর প্রদেশের কয়েকটি জেলায় আবারও বুলডোজার অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। অবৈধ নির্মাণ ও জমি দখলের অভিযোগে চলতি সপ্তাহে গাজিয়াবাদ, বারাণসী ও বাগপতে কয়েকটি মসজিদ, মাদ্রাসা এবং ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ও সমালোচকদের অভিযোগ, এসব অভিযানে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
গাজিয়াবাদের দাসনা এলাকায় ‘মাদ্রাসা আরাবিয়া ইসলাম’ নামের একটি মাদ্রাসা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় প্রশাসন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের পর অবৈধ দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে আকস্মিক উচ্ছেদের ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে বারাণসীর রাজঘাট এলাকার ঘটনা। ‘কাশি মডেল রেলওয়ে স্টেশন পুনর্উন্নয়ন’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ‘আজগাইব শহীদ মসজিদ’ ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের দাবি, স্থাপনাটি রেলওয়ের জমিতে অবস্থিত ছিল এবং আদালতের অনুমোদনের পরই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনাটি গভীর রাতে ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে বাগপত জেলার বারৌত তহসিলের বোপুরা গ্রামেও। রাজস্ব ও পুলিশ বিভাগের যৌথ তদন্তের পর একটি ধর্মীয় স্থাপনাকে অবৈধ ঘোষণা করে বুলডোজার দিয়ে অপসারণ করা হয়।
এসব উচ্ছেদ অভিযানের সময় সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে।
উত্তর প্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সরকারের ‘বুলডোজার নীতি’ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও মুসলিম সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত শুনানি ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে রাজ্য সরকারের দাবি, আদালতের নির্দেশনা ও বিদ্যমান আইন অনুসারেই সব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।