আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
জাপানে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বৃদ্ধির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির ইমাম কাউন্সিল (কাউন্সিল অব ইমামস ইন জাপান)।
এক বিবৃতিতে কাউন্সিল বলেছে, জাপানে বসবাসরত মুসলিমরা দেশটির সামাজিক ও মানবিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুসলিমদের জাপানি সমাজ, সংস্কৃতি বা নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপনের যেকোনো অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাপানের নাগরিক ও বিদেশি মুসলিমরা কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষা এবং কর প্রদানের মাধ্যমে দেশটির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। মুসলিম সম্প্রদায় জাপানের সংবিধান, আইন ও জনশৃঙ্খলা মেনে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কাউন্সিল আরও জানায়, মসজিদ বা ইসলামিক সেন্টার নির্মাণসংক্রান্ত কোনো প্রশাসনিক সমস্যা দেখা দিলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলাম বা পুরো মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর সুযোগ নেই।
বিবৃতিতে মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা, ভয় বা উদ্বেগ ছড়ায়—এমন সব ধরনের প্রচারণা প্রত্যাখ্যান করা হয়। পাশাপাশি ধর্মীয় কারণে কোনো ব্যক্তি বা ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানির তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য জাপানে বসবাসরত মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কাউন্সিল বলেছে, ইসলাম যে দয়া, সহমর্মিতা ও সম্মানের ধর্ম—তা আচরণের মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে জাপানের জনগণ, স্থানীয় সরকার ও গণমাধ্যমকে কুসংস্কার ও ঢালাও মন্তব্য পরিহার করে শান্ত ও নিরপেক্ষ সংলাপের মাধ্যমে বিষয়গুলো মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাপানের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা এবং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার আহ্বানের মধ্য দিয়ে বিবৃতিটি শেষ হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মুফতি এম আলতাফ খান, সহ-সভাপতি আহমেদ মায়েনো এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইসমাইল।