আব্দুল্লাহ আল মামুন পিন্টু,স্টাফ রিপোর্টারঃ
টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আবারও দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একজন নিহত এবং উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ১৬টি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, গরু-বাছুর, গোলার ধান ও গৃহস্থালি সামগ্রী লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকে গোপালপুর উপজেলার গুলিপেঁচা ও ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রাম এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টানা চার ঘণ্টার সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২২ এপ্রিল দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। সেই বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের কালাম তালুকদার (৬৫) নিহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন।
অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতেই গুলিপেঁচা গ্রামে অন্তত ১১টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। গরু-বাছুরসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরদিন শুক্রবার সকালে ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকার মধ্যেই আরও পাঁচটি বাড়িতে আগুন দেওয়া এবং কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের নলিন বাজারে হামলা চালিয়ে শতাধিক দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, জগৎপুরা গ্রামের ব্যবসায়ীদের দোকান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং প্রায় তিন কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতেই মাইকিং করে অস্ত্র নিয়ে নলিন বাজারে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে গোপালপুরের নলিন ও ভূঞাপুরের জগৎপুরা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুল আলম বলেন, মাসখানেক আগে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ৩০ জন আহত হয়। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জগৎপুরা গ্রামের কয়েকশ মানুষ গুলিপেঁচা গ্রামে হামলা চালায়। এতে নারী ও শিশুসহ অনেকেই আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন হেমনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে দুই গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও সংঘর্ষের প্রভাব আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার আগেই কালাম তালুকদারের মৃত্যু হয়েছে।