আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একদিকে যেমন কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে ক্রমেই জটিল করে তুলছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক এখন শান্তি ও সংঘাতের মধ্যবর্তী এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার জন্য ব্যবহৃত যেকোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে তেহরান বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামোয় হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, দেশটির নৌবাহিনী ওমান উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। একই সঙ্গে তেহরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর তৎপরতার কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলের ট্যাংকার চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে কুয়েত, বাহরাইন ও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, একটি হামলায় বিমানবন্দর এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, কুয়েতমুখী কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করা হয়েছে।
সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী এবং দুই পক্ষের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অন্যদিকে ইরানও আলোচনা থেকে সরে আসেনি। পাকিস্তান ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিকে এখনই কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সব মিলিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে এক জটিল মোড়ে অবস্থান করছে। একদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা, অন্যদিকে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সীমিত সংঘাতের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ফলে অঞ্চলটি শান্তির পথে এগোবে, নাকি আবারও বৃহত্তর সংঘাতের দিকে যাবে—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।