নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ঈদের আনন্দ শেষে ঘরে ফেরার পথে স্বস্তির বদলে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী হাজারো যাত্রী। বিশেষ করে ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়কে টোল প্লাজা থেকে পৌলি পর্যন্ত প্রায় ১৫–১৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, সেতুর পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে গাড়ি বিকল হওয়া এবং একাধিক দুর্ঘটনার কারণে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। শুক্রবার রাতের দিকে যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে ঢাকামুখী লেনে একটি বাসের সঙ্গে আরেকটি বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত হন। এ ঘটনার পর সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
যমুনা সেতু এলাকায় টোল আদায়ে ধীরগতি এবং বিপুল সংখ্যক যানবাহনের চাপকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় ‘বোতলনেক’ পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু পার হয়েছে ৪০ হাজারের বেশি যানবাহন, ফলে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা ও আশপাশের এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একাধিক যানবাহন বিকল হওয়া এবং সড়কে দুর্ঘটনার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সময় লাগছে। হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক করতে নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদ শেষে গার্মেন্টস ছুটি একযোগে শেষ হওয়ায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকামুখী হওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক যাত্রী নৌপথ ব্যবহার করে যমুনা নদী পার হয়ে বিকল্প পথে ঢাকার দিকে যাত্রা করছেন। তবে এই বিকল্প পথেও এখন যানবাহনের চাপ ক্রমশ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে যানজট কিছুটা কমলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।