নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। রোববার (৭ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে তাকে দেখা যায়। এ সময় বহুল আলোচিত এ মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড়ও লক্ষ্য করা যায়।
বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আদালত নির্দেশ দেন, এই অর্থ ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।
রায় ঘোষণার আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না আক্তার এবং সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে সোহেল রানাকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় এবং নির্ধারিত সময়ে এজলাসে তোলা হয়।
রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
গত ১৯ মে পল্লবীতে ঘটে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড। মামলার এজাহার অনুযায়ী, সেদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা বাসা থেকে বের হওয়ার পর প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে রামিসার মা সোহেল রানার বাসার সামনে তার জুতা দেখতে পান। দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির মধ্যে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই দিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মাত্র চার দিনের মাথায় ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।
গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর আদালত ৭ জুন রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। ফলে মাত্র ১৯ দিনের মধ্যেই বহুল আলোচিত এই মামলার বিচার সম্পন্ন হলো।