নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী ও প্রথম শ্রেণির সৈয়দপুর পৌরসভায় হোল্ডিং কর আদায়ে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ২৪ হাজার করদাতার মধ্যে নিয়মিত কর পরিশোধ করছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা, যা পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বহু আবাসিক হোল্ডিংয়ের কর বছরের পর বছর ধরে বকেয়া রয়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ রাজস্বের প্রধান উৎস হওয়া সত্ত্বেও এই খাতে কাঙ্ক্ষিত আদায় না হওয়ায় নাগরিক সেবা প্রদান কঠিন হয়ে পড়েছে।
পৌরসভার হোল্ডিং কর আদায় কর্মকর্তা সুজন শাহ জানান, এককভাবে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে সৈয়দপুর সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের—প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এছাড়া উপজেলা পল্লী উন্নয়ন দপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা দপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, শিক্ষা অফিস, সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের কর বকেয়া রয়েছে।
শুধু প্রতিষ্ঠানই নয়, পৌর এলাকার প্রায় ১৬ হাজার ব্যক্তিমালিকানাধীন হোল্ডিংয়ের কাছেও প্রায় ৩ কোটি টাকার কর বকেয়া জমে আছে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অর্থ সংকটের কারণে পৌরসভা নিয়মিত উন্নয়ন কাজ যেমন সড়ক, ড্রেন ও অবকাঠামো নির্মাণ ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রশাসনিক জটিলতাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা জানান।
সৈয়দপুর পৌর কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের বলেন, সময়মতো কর আদায় হলে প্রতি বছর বহু উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ায় আদায়ের হার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, বকেয়া আদায়ে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ নাগরিকদের কর পরিশোধে উদ্বুদ্ধ করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।