নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বিশ্ববাজারে আবারও স্বর্ণের দামে পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা জোরালো হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মনোভাব পরিবর্তিত হয়েছে। একই সঙ্গে ডলারের শক্ত অবস্থান ও সরকারি বন্ডের উচ্চ মুনাফা স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করেছে।
সোমবার সকাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় শূন্য দশমিক চার শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩১৩ ডলারে নেমে আসে। এর আগের সেশনে দাম প্রায় তিন শতাংশ কমে গত মার্চ মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। আগামী আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারেও পতন দেখা গেছে, যেখানে দাম নেমে আসে ৪ হাজার ৩৩৬ ডলারের কাছাকাছি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নীতি গ্রহণের সম্ভাবনা এখন বিনিয়োগকারীদের প্রধান বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়ে যাওয়ায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিলেও তা স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং ইসরাইলের পশ্চিম ও মধ্য ইরানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার খবর আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি তিন ডলারের বেশি বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাকে আরও উসকে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৭২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। শ্রমবাজারের শক্ত অবস্থান এবং মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে নীতি কঠোর করার ইঙ্গিতও দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা।
এদিকে মূল্যবান ধাতুর অন্যান্য বাজারেও পতনের ধারা দেখা গেছে। রূপার দাম সামান্য কমেছে, প্লাটিনামের দামে পতন ঘটেছে এবং প্যালাডিয়ামের বাজার প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে।
সব মিলিয়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও বৈশ্বিক আর্থিক নীতির চাপই আপাতত স্বর্ণবাজারের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে।