‘হেক্সা’ মিশনে এবার কৌশল বদলেছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। প্রথা ভেঙে এবার দলের দায়িত্বে আছেন অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ব্রাজিলের চিরচেনা শৈল্পিক আক্রমণের সঙ্গে ইউরোপীয় শৃঙ্খলার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন তিনি। তবে আনচেলত্তির এই মিশন কতটা সফল হবে, তা নিয়ে ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘অপটা’ তাদের সুপারকম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে একটি সম্ভাব্য রোডম্যাপ ও ভবিষ্যৎবাণী প্রকাশ করেছে।
গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। কাগজে-কলমে এই গ্রুপ থেকে বের হওয়া তাদের জন্য বড় বাধা নয়। বিশ্লেষণ অনুযায়ী প্রায় ৯৭ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে নকআউট পর্বে পৌঁছানোর। গ্রুপ পেরিয়ে রাউন্ড অব ৩২ এ তাদের সামনে আসতে পারে জাপান। সাম্প্রতিক সময়ে জাপান ব্রাজিলকে হারানোর নজির রয়েছে, তবুও সামগ্রিকভাবে ব্রাজিলের অভিজ্ঞতা ও রেকর্ড অনেক এগিয়ে। এই ধাপ পার হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬২ শতাংশ। শেষ ১৬-তে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নরওয়ে, যেখানে আছেন আর্লিং হালান্ড। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও বিশ্বকাপ নকআউটে ব্রাজিলের অভিজ্ঞতা বড় শক্তি। তবে অপটা বলছে এই ধাপটি বেশ অনিশ্চিত, সম্ভাবনা তুলনামূলক কম ধরা হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড হতে পারে ব্রাজিলের বড় বাধা। ইতিহাস বলছে, এই ম্যাচে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও লড়াই সবসময়ই হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল এখনো অপরাজিত।
অপটার সুপারকম্পিউটার সিমুলেশন অনুযায়ী, এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপ জেতার রেসে ব্রাজিল ফেভারিটদের তালিকার একদম শীর্ষে নেই। তবে তাদের ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৬.৭ শতাংশ। তবে পরিসংখ্যান যা-ই বলুক না কেন, কার্লো আনচেলত্তির কৌশল এবং ভিনিসিয়ুস-রদ্রিগোদের ছন্দের ওপর ভর করে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকেরা আরও একবার বুক বাঁধছেন হেক্সা জয়ের স্বপ্নে। এখন নেইমার, ভিনিসিয়ুসরা সেটা করতে পারেন কি না, সেটাই দেখার অপেক্ষা।