নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের গণমাধ্যমের বর্তমান পরিবেশ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে সম্পাদক পরিষদ জানায়, বর্তমান সময়ে সংবাদপত্র আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এজন্য তারা সরকারের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানায়।
সম্পাদকদের মতে, বিগত তিন মাসে সংবাদ প্রকাশে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই গণমাধ্যমকে কাজ করতে দেওয়া হয়েছে, যা ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তারা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত গণমাধ্যম স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে সম্পাদক পরিষদ কিছু পুরোনো গণমাধ্যম আইনকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তা সংশোধনের দাবি জানায়। বিশেষ করে প্রকাশনার ঘোষণাপত্রের ‘ফর্ম বি’ সংশোধনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়, যা তারা সংবিধানবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক বলে মন্তব্য করেন।
এছাড়া দ্রুত একটি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন অথবা প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়। সরকার এ বিষয়ে আগামী জুন–জুলাইয়ের মধ্যে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানানো হয়।
বৈঠকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা নিয়েও আলোচনা হয়। সম্পাদক পরিষদ এসব মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির ওপর জোর দেয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করাই তাদের লক্ষ্য। শক্তিশালী গণমাধ্যম রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য বলেও মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে সরকারের একাধিক মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।