নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে একই বিমানবন্দরে এটি দ্বিতীয় বড় হামলা। হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম)।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষ করার কিছুক্ষণ পরই বিমানবন্দর এলাকা থেকে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ নাইজারের রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি বসবাসকারী লাওয়ালি সালহা বিবিসিকে বলেন, ভোর প্রায় ৫টা ৫০ মিনিটে তারা নামাজ শেষ করেন। এর কিছুক্ষণ পর একটি বিকট শব্দ শোনা যায়।
স্থানীয় কিছু বাসিন্দাও অভিযানে অংশ নেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সাধারণ মানুষকে অভিযানে সরাসরি অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, হামলাকারীরা স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। ফলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় অনেক বাসিন্দা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দা, লাঠি ও অন্যান্য সরঞ্জাম হাতে নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন। হামলার পর বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। ওই এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। যানবাহন ও যাত্রীদের কঠোর তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
গত এক দশক ধরে ইসলামপন্থি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করছে নাইজার। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একই বিমানবন্দরে হামলা হয়েছিল। তখন ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করে। ওই ঘটনায় চারজন সেনাসদস্য আহত হন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২০ জন হামলাকারী নিহত হয় বলে জানিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। জানুয়ারির ওই হামলার পর নাইজারের সামরিক সরকারের প্রধান আবদুরাহামানে তিয়ানি হামলা প্রতিহত করতে সহায়তার জন্য রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ফ্রান্স, বেনিন ও আইভরি কোস্টের নেতাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে তিনি এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। রাশিয়ার সহায়তার ধরন সম্পর্কেও বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরের আশপাশের কয়েকটি এলাকা গুঁড়িয়ে দিয়েছে নাইজার সরকার। কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ঝুঁকি ছিল। পাশাপাশি বিমানবন্দরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণের পাশাপাশি ৩৫০টির বেশি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে- জানায় এএফপি। হামলার ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি নাইজারের কর্তৃপক্ষ।