জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক।
দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানজির আহমেদ জানিয়েছেন, নতুন করে পাওয়া অভিযোগগুলো চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং ৩৬ জেলা প্রশাসক পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের দাবি।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্য এবং বিভিন্ন নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পদায়ন ও পদোন্নতিতেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদায়নে ৭৬ লাখ টাকা, ১৫০ সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতিতে ১ কোটি ৫ লাখ এবং পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নে আরও প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত নয়; দুদকের অনুসন্ধান চলছে।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, তদন্তের ফল বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের আগেই দুদকের বক্তব্যের কারণে তাকে নিয়ে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি নোটিশও পাঠানো হয়েছে দুদককে।
দুদক জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধান বর্তমানে চলমান রয়েছে।