ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেননি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে তার অনুপস্থিতির বিষয়ে চীনা প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্মেলন ও একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচি শেষে বিশ্রামের জন্য হোটেলে ফিরে যান শি জিনপিং। দীর্ঘ বিমানযাত্রা ও সময়ের পার্থক্যের কারণে তিনি বেশ ক্লান্ত ছিলেন বলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে জানানো হয়েছে।
শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেন চীনা প্রেসিডেন্ট। একই দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি। দিনভর বিভিন্ন কূটনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন শি।
শি জিনপিং ছাড়াও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ নৈশভোজে অংশ নেননি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ব্রিকসের অন্য কয়েকজন নেতা নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন।
নৈশভোজে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ, নির্মলা সীতারামন, পীযূষ গোয়েল, অশ্বিনী বৈষ্ণব ও শিবরাজ সিং চৌহান উপস্থিত ছিলেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাসহ উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও এতে অংশ নেন।
দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলন আজ শেষ হওয়ার কথা। এতে ১১টি সদস্য দেশের নেতা ছাড়াও ১০টি অংশীদার দেশের নেতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে নরেন্দ্র মোদির সাতটি দেশের নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এর আগে শনিবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ভারত-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন মোদি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই নেতা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা মতপার্থক্য যেন বিরোধে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে জোর দেন।
বৈঠকে মোদি বলেন, ভারত-চীন সম্পর্ককে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালনা করা উচিত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের আগস্টে তিয়ানজিনে দুই নেতার সর্বশেষ বৈঠকের পর ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে অগ্রগতি হয়েছে, তারা তা স্বাগত জানিয়েছেন।