• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

কুমিল্লায় যুবলীগ নেতাকে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যা

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি / ৮ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুমিল্লার মুরাদনগরে আত্মগোপন থেকে ফেরা এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মো. আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে ওই নেতাকে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার উত্তর পেন্নই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আনোয়ার শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য এবং একই ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন বলে জানা গেছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। স্বামীকে রক্ষা করতে গিয়ে তার স্ত্রী মোমেনা বেগমও আহত হন। প্রায় আড়াই বছর ধরে আত্মগোপনে ছিলেন আনোয়ার। শনিবার গভীর রাতে গোপনে তিনি বাড়িতে ফেরেন। বিষয়টি জানতে পেরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।
আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোমেনা বেগম জানান, হামলার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। তার আহত স্বামীকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাদের আটকে রাখা হয়। পরে বাঙ্গরা বাজার থানা-পুলিশের সহায়তায় সকাল ৬টার দিকে আনোয়ারকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুস সাকির বলেন, হাসপাতালে আনার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।
আনোয়ারের চাচাতো ভাই মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কয়েক দিন আগে গ্রামে ফেরার চেষ্টা করলে ফিরোজ হোসেনের লোকজন আনোয়ারের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে তারা জানতে পারেন। টাকা না দিলে এলাকায় এলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। জসিমের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের পক্ষে কাজ করেন। অন্যদিকে সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকারের পক্ষে কাজ করেন। ওই নির্বাচনে জাহাঙ্গীরের কাছে ইউসুফ পরাজিত হন।
আনোয়ার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে মারামারির ঘটনায় বাঙ্গরা বাজার থানায় পাঁচটি মামলা আছে বলে জানান ওসি মো. শফিউল আলম। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা