বাংলা চলচ্চিত্রের রূপালী পর্দায় আঠারো পেরিয়ে সাতাশের কোঠায় এক অনবদ্য ইতিহাসের নাম শাকিব খান। ১৯৯৯ সালের ২৮ মে বিশিষ্ট নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের ‘অনন্ত ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে যার রুপালি পর্দায় অভিষেক হয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় তিনি আজ ঢালিউডের অবিসংবাদিত ‘কিং খান’। প্রাথমিক দিনগুলোর লড়াই পেরিয়ে নিজস্ব মেধা, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও রূপালী পর্দার আবেদন দিয়ে তিনি জয় করেছেন কোটি দর্শকের হৃদয়।

‘কোটি টাকার কাবিন’, ‘প্রিয় আমার প্রিয়া’, ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ কিংবা ‘নাম্বার ওয়ান শাকিব খান’- একের পর এক ব্যবসা সফল ও নন্দিত চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন জনপ্রিয়তার শিখরে। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে রোমান্টিক, অ্যাকশন ও পারিবারিক নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে ইন্ডাস্ট্রিকে একহাতে টেনে নিয়ে গেছেন তিনি। অসামান্য অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ একাধিকবার ভূষিত হয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে।

সময়ের সাথে সাথে শাকিব খান কেবল দেশের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; ২০১৬ সালে ‘শিকারি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দুই বাংলার চলচ্চিত্রাঙ্গনে সৃষ্টি করেন এক নতুন আলোড়ন। এরপর ‘নবাব’ ও ‘চালবাজ’-এর মতো ছবিতে তার সাবলীল অভিনয় তাকে পৌঁছে দেয় এক নতুন উচ্চতায়।

সাম্প্রতিক সময়ে ‘প্রিয়তমা’, ‘রাজকুমার’, ‘তুফান’, ‘দরদ’, ‘বরবাদ’, ‘তাণ্ডব’ ও ‘প্রিন্স’-এর মতো মেগা প্রজেক্ট দিয়ে বড় পর্দায় রাজত্ব বজায় রেখেছেন এই সুপারস্টার। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনায় যুক্ত হয়ে ইন্ডাস্ট্রির ভাবমূর্তিও বদলে দিচ্ছেন তিনি। ২০২৬ সালে তার বহুপ্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রকস্টার’ নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে তুমুল উন্মাদনা।

বদলানো সময় ও ভিন্নধর্মী দর্শকের রুচির সাথে তাল মিলিয়ে দুই শতাধিক চলচ্চিত্রের এই দীর্ঘ পথচলায় শাকিব খান প্রমাণ করেছেন-সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও, রাজাসনে তার উপস্থিতি আজও অনন্য ও অপ্রতিরোধ্য।