নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
মোবাইল ফোন টাওয়ার থেকে নির্গত রেডিয়েশনের (বিকিরণ) মানুষের স্বাস্থ্য, প্রাণী ও পরিবেশের ওপর প্রভাব নির্ধারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) দিয়ে গবেষণা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, আদালতপাড়া এবং অন্যান্য জনবহুল স্থানে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন না করার বিধান গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ (এইচআরপিবি)-এর দায়ের করা এক রিটের শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত আসে।
আদালত বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে একটি গবেষণা প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জনবহুল এলাকায় টাওয়ার স্থাপন সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করে একটি কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, পূর্ববর্তী নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ ও স্থাপনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে বিভিন্ন দেশে বিকিরণের সীমা আরও কঠোর করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশেও এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে তুলনামূলক উচ্চ মাত্রা বজায় রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল বুয়েটের একজন অধ্যাপক আদালতে একটি গবেষণা প্রতিবেদন দাখিল করেন, যেখানে বিকিরণের মাত্রা কমানো ও নিরাপদ দূরত্ব নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়।
আদালত মনে করছে, নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এ বিষয়ে গবেষণা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও অগ্রসর হবে। আগামী ২ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে।