• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন

রাজধানীতে অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা ডিএমপি কমিশনারের

প্রতিবেদক / ৩২ বার
আপডেট : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

বিজয় চৌধুরী, ঢাকা

রাজধানীতে মব কালচার, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাই এবং সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ঢাকায় কোনোভাবেই মব কালচার সহ্য করা হবে না এবং এ ধরনের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে—অপরাধীর পরিচয় যাই হোক না কেন।

বুধবার সকালে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে এবং কোনো অপরাধীই ছাড় পাবে না।

কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজধানীতে সক্রিয় গ্যাংগুলোর তালিকা রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান। গ্যাং লিডারদের শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ধাপে ধাপে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে এ সমস্যা মোকাবিলায় সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রায় তিন কোটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্য সামনে রেখে গত ১ মে থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে ইতোমধ্যে ২০৬ জন চাঁদাবাজ, ৮৪৭ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৬৭০ জন ছিনতাইকারীসহ মোট ২,০২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

থানায় দালালচক্র ও ভুক্তভোগীদের হয়রানি নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, থানাগুলোকে আরও জনবান্ধব ও সেবামুখী করা হবে। কোথাও দালালের উপস্থিতি বা খারাপ আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশ্বাস দেন, থানায় গেলে জনগণ সম্মানজনক আচরণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে।

যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও তুলে ধরেন কমিশনার। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন এবং ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে ই-প্রসিকিউশন চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।

আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে—যেমন পশুর হাট, ঈদগাহ, শপিংমল, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশন—বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে নগদ লেনদেন কমিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের আহ্বান জানান এবং বড় অঙ্কের অর্থ পরিবহনে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার বা মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে অসদাচরণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, তবে কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করার সুযোগ নেই।

নিজের দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ মহানগর গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য। এ কাজে জনগণ, গণমাধ্যম ও পুলিশের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, ছোটখাটো অপরাধের তথ্যও যেন পুলিশকে জানানো হয়, কারণ ছোট অপরাধ থেকেই বড় অপরাধের সূত্রপাত ঘটে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা