আব্দুর রহমান রাসেল,রংপুর ব্যুরোঃ
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে রংপুরে পশুর হাট। তবে আমদানি বেশি হলেও বেচাকেনা খুবই কম। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। বিক্রেতারা জানান, ছোট আকারের সাড়ের চাহিদা অনেক বেশি। সাধ্যের মধ্যে সেরা গরুটি কিনতে এক হাট থেকে ছুটছেন অন্য হাটে । তবে তুলনা মূলকভাবে দাম কিছুটা কম রয়েছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পাওটানা হাট থেকে ছবি তোলা
আজ শুক্রবার দুপুরে জেলার ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট লালবাগ,বেতগাড়ি, বুড়ির হাট,চৌধুরানীর হাট, ও পাওটানা হাটে গিয়ে সরজমিনে দেখা যায়, ছোট সাইজের গরু ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বেচা বিক্রি হচ্ছে,মাঝারী সাইজের গরু ১ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বড় সাইজের গরুর চাহিদা খুবই কম। কোরবানির পশুর হাটগুলোতে নির্বিঘ্নে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন ইজারাদাররা। জেলায় কোরবানীযোগ্য পশু রয়েছে ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার। হাট গুলোতে বড় গরু উঠলেও ক্রেতা নেই। এতে হতাশ খামারিসহ গরু বিক্রেতারা। মাঝারি সাইজের গরু চাহিদা হওয়ার কারণে বড় গরু গুলো বিক্রি করার খোদ্দার পাওয়া যাচ্ছে না । জেলায় ২ লক্ষ ২৪ হাজার গরুর বিপরীতে প্রস্তুত করা হয়েছে ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার গবাদি পশু।রংপুর জেলার ৮ টি উপজেলায় স্থায়ী অস্থায়ী হাট বসেছে ৬১টি। সব ধরনের গরু হাটে পাওয়া গেলেও সাইজে ছোট ও মাঝারী গরুর চাহিদা অনেক বেশী। দূর দুরান্ত থেকে বিভিন্ন পাইকাররা এসে গরু ছাগল ক্রয় করে বেশী লাভের আশায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
ক্রেতা কয়েকজন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর কোরবানীর পশুর দাম তুলনা মূলকভাবে কিছুটা বেশি রয়েছে। এদিকে,আবার ধান ও আলুর দাম নেই। হাটে গরু কিনতে আসলেও কোরবানির পশু কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ছোট গরু চাহিদা অনেক বেশি। সাধ্যের মধ্যে থেকে কোরবানির পশু কিনার চেষ্টা করছি ।
বিক্রেতারা বলছেন,কোরবানির ঈদ কাছাকাছি চলে আসলেও তেমন ভাবে বিক্রি হচ্ছে না। এ বছর দেশি গরুর আমদানি অনেক বেশি। দেশী ও ফ্রিজিয়াম গরু নিয়ে এসেছি এখনো বিক্রি করতে পারিনি। দাম খুব কম বলছে। গো খাদ্যর দাম বেশি হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
পাওটানা হাট ইজারাদার,আব্দুল বারী জুলফিকার,এবারের কোরবানি ঈদে গরুর হাটে ক্রয় বিক্রয় খুবই কম। তবে এই হাটে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে সার্বক্ষণিক জানালেন হাট ইজারাদার।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগের পরিচালক ডাঃ মোঃ আব্দুল হাই সরকার,হাটগুলোতে যাতে অসুস্থ গরু বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য হাটে মেডিকেল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি হাটে আসা কোনো গরু অসুস্থ হলে মেডিকেল টিম চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রংপুর জেলাসহ বিভাগে পশুর চাহিদা রয়েছে ১৪ লাখ ৬৬ হাজার। তার বিপরীতে উৎপাদন ২০ লাখ ২৩ হাজার অর্থাৎ এবছর ৫ লাখ ৫৭ হাজার কুরবানির গরু ঢাকাসহ অনান্য এলাকায় যাবে।