• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমি মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে: মমতা ব্যানার্জী ইসরায়েলে হামলা বন্ধের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের, সিদ্ধান্ত জানালো হিজবুল্লাহ ভাগ্নিকে মোটরসাইকেল চালানো শেখাতে গিয়ে সড়কে মামার মৃত্যু গাজীপুরে ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় আরো তিনজন গ্রেফতার ফুলের সুগন্ধ থেকে বিকল্প চিকিৎসা: এরোমা থেরাপির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নরসিংদী রায়পুরা বাঁশগাড়িতে অস্ত্র ঠেকিয়ে মটর সাইকেল সহ পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপন আদায় গাইবান্ধায় হামলা, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ‌ দীর্ঘ বিরতি শেষে টেনিস কোর্টে ফিরছেন সেরেনা উইলিয়ামস! কালীগঞ্জে যুবকের মরদেহ উদ্ধার: মুখমণ্ডল ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন

ফুলের সুগন্ধ থেকে বিকল্প চিকিৎসা: এরোমা থেরাপির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা

প্রতিবেদক / ১ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

লেখক: মো: শোয়েব হোসেন
(সংগীত শিক্ষক, কন্ঠশিল্পী, থেরাপি গবেষক,বিশ্লেষক ও চিন্তাবিদ)

প্রকৃতি আমাদের দিয়েছে অসংখ্য উপহার।তার মধ্যে ফুল-ফল,পাতা ও গাছের বাহার,বৈচিত্র ও সুগন্ধ অন্যতম।এসবের প্রাকৃতিক ঘ্রাণ থেকেই জন্ম নিয়েছে এরোমা থেরাপি (Aromatherapy)এক যুগান্তকারী বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি, যা একই সঙ্গে শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতা অর্জনে সাহায্য করে।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে আজ এরোমা থেরাপি কেবল স্পা বা রিলাক্সেশনের অংশ নয়, বরং এটি একটি স্বীকৃত হোলিস্টিক থেরাপি (Holistic Therapy)অর্থাৎ দেহ, মন ও আত্মার সমন্বিত চিকিৎসা।

শারীরিক উপকার: প্রকৃতির ঘ্রাণে ব্যথাহীন জীবন–

এরোমা থেরাপিতে ব্যবহৃত এসেনশিয়াল অয়েল (Essential Oil) যেমন ল্যাভেন্ডার, ইউক্যালিপটাস, রোজমেরি ও পিপারমিন্ট ত্বকের মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে পেশি শিথিল করে, ব্যথা উপশম করে ও ঘুমের মান উন্নত করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায়ও এই তেলগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বিশ্বের অনেক হাসপাতালে এখন রোগীর শারিরীক প্রশান্তি ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে এই থেরাপি ব্যবহার করা হচ্ছে।

মানসিক উপকার: ঘ্রাণে প্রশান্ত মস্তিষ্ক–

ঘ্রাণ আমাদের মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমে সরাসরি প্রভাব ফেলে, যা আবেগ ও স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করে।ল্যাভেন্ডার, রোজ, বারগামট বা লেমন অয়েল উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমায়, মনোযোগ বাড়ায় এবং বিষণ্ণতা দূর করে।
এ কারণেই দেশে-বিদেশে বিভিন্ন কর্পোরেট অফিস, বিদ্যালয়,থেরাপি সেন্টার ও মেডিটেশন সেশনে এখন ডিফিউজার ব্যবহার বাড়ছে।

আধ্যাত্মিক উপকার: ঘ্রাণে আত্মার জাগরণ–

এরোমা থেরাপি ধ্যান, প্রার্থনা ও আধ্যাত্মিক সাধনায় মনোসংযোগ বৃদ্ধি করে।
স্যান্ডালউড, ফ্র্যাঙ্কিনসেন্স, লোটাস ও প্যাচুলি অয়েল ধ্যানের সময় ব্যবহারে মন স্থির হয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ে ও অন্তর্দৃষ্টি জাগে। অনেক আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ও যোগাসন প্রশিক্ষণস্থলে এর ব্যবহার এখন সাধারণ বিষয়।

দেশে এরোমা থেরাপি চালু করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:

যেহেতু বাংলাদেশে এটি এখনও খুব সীমিত পরিসরে পরিচিত, তাই দেশব্যাপী কার্যকরভাবে চালু করতে নিচের পদক্ষেপগুলো জরুরি —

প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা:

সরকারী/বেসরকারী উচ্চবিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অ্যারোমাথেরাপি ও ন্যাচারাল হিলিং বিষয়ে বেসিক ও ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা।পাশাপাশি বিভিন্ন মেডিকেল, মিউজিক ও সাউন্ড থেরাপি ইন্সটিটিউটগুলোতে “ঘ্রাণ-চিকিৎসা”কে সহায়ক থেরাপি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।তাছাড়াও গ্রাম্য পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠন ও এনজিও এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা মুলক কর্মসুচী চালু করতে পারে।

স্থানীয় এসেনশিয়াল অয়েল উৎপাদন–

বাংলাদেশে উৎপন্ন ফুল, তুলসি, লেবু, গোলাপ, লেমনগ্রাস, বেলপাতা ইত্যাদি থেকে স্থানীয় এসেনশিয়াল অয়েল তৈরি করার প্রকল্প হাতে নিলে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে নতুন নামের ব্র্যান্ড তৈরি করা সম্ভব।

থেরাপি সেন্টার ও কমিউনিটি সার্ভিস–

জেলা/উপজেলা পর্যায়ে এরোমা ওয়েলনেস সেন্টার স্থাপন করা, যেখানে প্রশিক্ষিত থেরাপিস্ট ও গবেষকণ সেবা দিতে পারবেন।

নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য, প্রসূতি-পরবর্তী বিষণ্ণতা,মাদকাসক্ত, শিশু-কিশোর শোধনাগার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র ইত্যাদি ছাড়াও স্কুল-কলেজে ছাত্রদের একাগ্রতা ও মেধাশক্তি বৃদ্ধিতে এই থেরাপি প্রচলন করা যেতে পারে।

গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল–

মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মনোবিজ্ঞান বিভাগ ও থেরাপি ইনস্টিটিউটগুলো যৌথভাবে গবেষণা শুরু করতে পারে এর কার্যকারিতা, সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে।গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ পেলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া সহজ হবে।

নীতিমালা ও আর্থিক সহায়তা–

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে “Alternative Therapy Division” গঠন করে এরোমা থেরাপিকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া।ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও মহিলা প্রশিক্ষণ প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত করা।

উপসংহার–

একবিংশ শতাব্দীর ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত পৃথিবী নতুন করে খুঁজছে প্রশান্তি ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা।
এরোমা থেরাপি কেবল ঘ্রাণ নয়, এটি প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের পুনর্মিলন বা পুনরুদ্ধার পদ্ধতি।বাংলাদেশে যদি সরকার, চিকিৎসক,সংগঠন ও গবেষকগণ একসঙ্গে কাজ করেন, তবে খুব সহজেই “ঘ্রাণের মাধ্যমে সুস্থতা” আন্দোলন একদিন হয়ে উঠতে পারে আমাদের দেশের বিকল্প স্বাস্থ্যসেবার নতুন অধ্যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা