গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :
সদর উপজেলার উলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পেছনে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর কেটেছেন। ঈদের ছুটির মধ্যেই তিনি ইউনিয়ন পরিষদের জায়গায় ওই পুকুর কেটে সেখানকার মাটি নিজ ঠিকাদারী কাজে ব্যবহার করেছেন। এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর অজ্ঞাত ব্যাক্তি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারী উলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের অন্যান্য অনিয়ম ও দূর্নীতির তথ্যাবলীও তুলে ধরেছেন প্রদত্ত অভিযোগে। ওই অভিযোগকারী ব্যাক্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও সচিব,পুলিশ সুপার,জেলা দুর্নীতি দমন বিভাগ,ইউএনওসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগের অনুলিপি পাঠিয়েছেন।
এ ধরনের তথ্য পেয়ে সরেজমিন উলপুর গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পেছনে সদ্য খনন করা একটি পুকুর দেখা গেছে।


উলপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব রক্ষক খনন করা পুকুরের জায়গা ইউনিয়ন পরিষদের বলে স্বীকার করেছেন।
এলাকাবাসী কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে সদ্য সমাপ্ত ঈদ উল আযহার ছুটির মধ্যে চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বাবুল ইউনিয়ন পরিষদের জায়গায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে পুকুর খনন করেছেন। পুকুর থেকে উত্তোলিত সমুদয় মাটি তিনি নিজের ঠিকাদারী কাজে ব্যবহার করেছেন।
উলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা তোতা মিয়া মোল্লা বলেন,চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বাবুলের একটি মাটি কাটা ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন আছে। সেটি দিয়ে তিনি ইউপি ভবনের পেছনে একটি পুকুর খনন করেছেন। এছাড়াও তিনি উলপুর থেকে সিকিপাড়া পর্যন্ত এমবিআর চ্যানেল পাড়ে কমপক্ষে পাঁচটি বড় সাইজের পুকুর কেটেছেন। পুকুরগুলির মাটি নিজ ঠিকাদারী কাজে ব্যবহার করেছেন। সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে খনন করা পুকুরগুলিতে তিনি মাছ চাষ করে লাখ লাখ টাকা লাভবান হয়েছেন। চেয়ারম্যান বাবুল ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে বেশ কয়েকটি দোকান তুলে ভাড়া আদায় করলেও সরকারি কোষাগারে তা জমা করেন না। আমাকে গোপালগঞ্জের সাবেক একজন জেলা প্রশাসক ৩০ শতাংশ সরকারি জমি বন্দোবস্ত দলিল করে দিয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগ নেতা ও চেয়ারম্যান বাবুল সেখান থেকে জোর করে তেরো শতাংশ জমি দখল করে নিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচীত হয়ে গত কয়েকবছর যা খুশি তাই করেছেন। তদন্ত করলে তার সকল অপরাধ বেরিয়ে আসবে।
অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বাবুলের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। কল করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে তিনি ইউপি কার্যালয়ে কম আসেন।
এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলাপ করা হলে সংশ্লিষ্টরা জানান উলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।